আমি হয়ত খুব পুরনো যুগের মানুষ। পুরনো ধ্যান ধারণা, আচার আচরণ, রীতি নীতি ...।নিজেকে আমি সংস্কারবাদী বলবনা । তবে প্রগতিশীলতা যদি নগ্নতা হয় তবে অবশ্যই আমি পুরনো যুগের মানুষ। কিন্তু এরপরও বলব সভ্যতা কখনো নগ্নতাকে সমর্থন করে না। ব্যাভিচার কখনো সমাজের অংশ হতে পারে না। শরীর প্রদর্শনও সভ্যতা নয়।আমি ধর্মের কথা বলব না। কারণ তা অনেকেই মানে না । আমাদের পাপরাশির কাছে আমাদের ধর্ম একেবারে শিশু।এখন ধর্ম মেনে চললে সব থেকে বোকা বনে যেতে হয়। ধর্মের নামে অধর্ম করার মানুষেরও সংসারে অভাব নেই। ধর্ম এখন অতি পুরনো সহজ ব্যবসা। তাই ধর্মের কথা না হয় বাদই থাকলো।যারা নগ্নতা সমর্থন করে তারা যে ধর্মের তোয়াক্কা করে না, এটা বোঝার মতো জ্ঞানও আমার হয়েছে ।কিন্তু অঙ্গ প্রদর্শন যদি বুদ্ধিবৃত্তিক আধুনিক সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে তাহলে পশু পাখিরাও আধুনিক। আর Just chilling এর মতো তোমরা যে শব্দগুলো উচ্চারণ কর। তা পশু পাখিদের ধ্বনির মতই শোনায়।তবুও আমার এদের প্রতি কৌতূহল হয় , ভীষণ রকম কৌতূহল হয়। আমার অনেক জানতে ইচ্ছে হয় এদের মগজটা আসলে কি দিয়ে তৈরি।বলছি না তুমি সব কিছু ঢেকে নিকাব পরে বসে থাকো। এই অধিকার আমার নাই। কিন্তু যাদের সৌন্দর্য প্রকাশে শরীর দেখানো আবশ্যকীয় তাদের মগজের উপস্থিতি সম্পর্কে আমি ভেটো দিতেই পারি। বলতে পারো শরীরটা তোমাদের কিন্তু চোখটাও তো আমার । আর যেহেতু আমি অন্ধ নই, কথা বলার অধিকারও আমার আছে। দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্য যাই বলি , কিছু ব্যাতিক্রম দম্পতি দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। তারা দলিল দস্তাবেজে স্বামী স্ত্রী । কিন্তু স্ত্রীর পাশে স্বামীকে খুব কম সময়ই দেখা যায় যতটা না স্ত্রীর ছেলে বন্ধুদের দেখা যায়। স্ত্রীটি প্রবাসী , মাঝে মধ্যেই ডাক্তার স্বামীটিকে নিজ দেশে নিয়ে যান। নিজ দেশ বললাম কারণ তারা সেটাকে নিজের দেশই মনে করেন। স্বামী স্ত্রী দুজনই জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। স্ত্রীটি মাঝে মধ্যেই নাইট ক্লাবগুলো তে চেক ইন দেন। রোজার মাসে তাকে হিজাব পরতে দেখা যায়। কিন্তু ঈদ আসলেই তিনি কাপড়ের পরিধিতে সানি লিওনকেও হার মানান। উনি আবার সানি লিওনের দারুন ভক্ত । কিন্তু আমার প্রশ্ন স্বামীটিকে নিয়ে , কি করে লোকটি এত ধৈর্যশীল!! হতে পারেন । জানি না বিধাতা ওনাকে কি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এত ধৈর্য এবং সংযম আছে বোধ করি বৈকি স্ত্রীকে অপর পুরুষের সাথে নাচতে দেখলে তিনি বিচলিত হন না। সত্যই তাহলে পুরুষ নারীকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছে। নাহ, নারী স্বাধীনতা নিয়ে আমার মনে কোন প্রশ্ন নাই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে সংসার জীবনে ব্যাক্তি স্বাধীনতা মানে কি? ব্যক্তি স্বাধীনতা মানে কি এই যে তুমি তোমার অর্ধাঙ্গ বা অর্ধাঙ্গীকে শুধু কাগজে কলমেই আটকে রাখবে। যেখানে হৃদয়ের বন্ধন নেই সেখানে কাগজ কলমের জোর কতটুকু। যার সাথে আত্মাটুকুই ভাগ করতে পারো না সেখানে বিছানাটা ভাগ করা অযৌক্তিক। আমি জানি আমার কথায় কিচ্ছু হবে না , এই মুহূর্তেই কোন ভণ্ড মুসলমান আমার কথা শুনে তার ভণ্ডামিটুকু ত্যাগ করবেন না। নিজে থেকে না চাইলে স্বয়ং বিধাতাও তার অন্তরের পরিবর্তন করেন না। তবু আমি চাই স্বাধীনতার এই মানেটুকু শুধু বদলাক। মানুষ একজন মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালোবাসুক। স্বাধীনতা মানে কখনো ব্যাভিচার নয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন