রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আলহামদুলিল্লাহ্‌

ক্লাস থ্রিতে একবার কোন একটা টিভি চ্যানেল স্কুলে এসেছিল প্রোগ্রাম করতে। আমাদের ভেতর থেকে একজনকে বেছে নেবে কবিতা আবৃত্তির জন্য। লাইন ধরে সবাই দাড়িয়ে গেলাম অডিশনে। কবিতার ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ ছিল। অনেকটা this is my things type এর। যাহোক সেরকম আশা নিয়ে দাড়িয়ে পরলাম অডিশনে। তো বিচারকদের আমার কবিতা পছন্দ হল না। তারা কিনা বেছে নিল আমার এক বন্ধুকে। বন্ধুটি আবার আমাদের ক্লাস এর রোল নাম্বার এক আর আমি কিনা রোল নাম্বার দুই। আমাকে রাখা হল রিজার্ভে। সেদিন খুব মন খারাপ হয়েছিল। আমার বন্ধুটি মুচকি মুচকি হাসি দিয়ে শুটিং শেষ করল। আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম। এখন সেই বন্ধুটি কথায় আছে জানি না। কোন খোঁজ খবরও নেই। সেই যে স্কুল ছেঁড়ে এসেছি আর কোনদিন জীবনে দেখাও হয়নি। আর একবার মনে আছে; আমি বোধ হয় তখন ফোরে। কোরাস গানের প্র্যাকটিস হচ্ছে স্কুলে। গানের দল থেকে টিচার বাদ দিয়ে দিলেন কয়েকজনকে কারণ আমার সুর মিল ছিল না। সেদিন গানের প্র্যাকটিস হবে ভেবে বাবাকে দেরি করে স্কুল থেকে নিতে বলেছিলাম। তাই আগে আগে বাদ হয়ে যাওয়ায় ক্লাসরুমের বাইরে একা একা খোলা মাঠে বেশ কিছুক্ষন পায়চারী করলাম। বন্ধ ক্লাস রুমের ভেতর থেকে " আমরা করব জয়" গানটার কোরাস ভেসে আসছিল। সেদিন ঠিক করেছিলাম গান শিখব। একদিন সবার থেকে ভাল গান গাব। তখন আর এভাবে বাদ দিতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত আমার আর গান শেখা হল না। even এখন গান শেখার ইচ্ছেটাও নেই। জীবনে এখন এতোগুলো চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দারিয়েছে যে এইসব জিনিস এখন গৌণ। তবে আমার কথার সারমর্ম হচ্ছে এই যে; জীবনে ব্যর্থতা কিংবা না পাওয়া বহুবার এসেছে কিন্তু তাই বলে জীবন তো থমকে থাকেনি। জীবন শুধু থমকে থাকে নি তাই নয় জীবন ছুটেছে। কত ব্যাথা ভুলে গেছি ইয়াত্তা নেই। পুরনো ঘা যেমন শুকিয়ে যায় পুরনো ব্যাথাও তেমনি। হয়ত একটু বেশি সময় নেয়। কিন্তু সেই ব্যাথা আর থাকে না। বেশ কয়েকমাস আগে একটা রুটিন শুরু করেছিলাম; কোনদিন কোন মন খারাপ হলেই একটা খাতা নিয়ে বসে পরতাম। তারপর সেই খাতায় সেই দিনের সবগুলি আনন্দের মুহূর্তের কথা লিখে রাখতাম। খাতাটার নাম দিয়েছিলাম "The diary of Happiness" মজার ব্যাপার হল; মাঝে মাঝে ওই ডায়রি লিখতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পরতাম। অবাক হয়ে দেখতাম আনন্দের মুহূর্তের সংখ্যা দেখে। এত্ত এত্ত আনন্দ! And the question arises that why I am still unhappy now? অবাক হতাম যে কষ্টটা কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে যেত। এখন বেশ কয়দিন হয়ে গেছে। সত্যি বলতে ওই ডায়রি লিখতেই এখন আলসেমি লাগে। কারন জীবনে এত এত সুখের ঘটনা......এত সব ঘটনা আমি রাখব কই? আর গত কয়দিন বা কয় সপ্তাহ ডায়রি লেখার প্রয়োজনটাও হয় না। কষ্ট দেয়া মানুষের জন্য আর খারাপ লাগে না। বরং এখন দোয়া করি। কারন Everyone has their own battle to fight. প্রোফাইল পিকচারের হাসি খুশি মুখটাই বলে দেয় না - আমি ভাল আছি। ভাল থাকা এর থেকে বড় কিছু। ভাল থাকা সম্পূর্ণ নিজের কাছে। আমি বলব না আমি ভাল আছি বরং বলব- i have enough reason to stay happy than being sad. "And He gave you from all you asked of Him. And if you should count the favor of Allah , you could not enumerate them." -verse (14:34).Alhamdulillah for everything.

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০১৫

পর্দা

প্রথমেই বলে নেই আমি ধর্মীয় কিংবা স্পর্শকাতর কোন বিষয় নিয়ে কথা বলা পছন্দ করি না। বিশেষত যে বিষয় নিয়ে আমার জ্ঞান কম (মোটামুটি শূন্যের কাছাকাছি ) সে সকল বিষয় নিয়ে কথা বলা আমার এখতিয়ারের ভেতর পরে না। তবু এ নিবন্ধের নাম "পর্দা" কেন না এ নিবন্ধ আমার একান্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা। আমার ভুল হতেই পারে এবং আমি যা দেখেছি বা যতটুকু অনুভুতি দিয়ে বুঝেছি এর সবটুকু অবশ্যই সঠিক নয়। তবে এটাও ঠিক আমার মত পৃথিবীর ঠিক একই প্রান্ত থেকে একই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা আমার সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত দ্বিতীয় একজনের পক্ষে পর্যবেক্ষণ করা প্রায় অসম্ভব।

এবার মূল নিবন্ধে আসি; আমি পর্দা করা শুরু করি খুব সম্ভব ২০০৫ থেকে। ক্লাস সেভেনে পরি তখন। হিজাব শুরু করাটা একটু ইন্টারেস্টিং কারণ ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল হঠাৎ করে ভেতর থেকে। ইংলিশে যেটাকে বলে Realization. আমি নামাজ পরি মোটামুটি ছোটবেলা থেকেই ; যখন থেকে একজন মানুষের সাথে স্রষ্টার পরিচয় হয় মোটামুটি তখন থেকেই। নামাজ পরার শুরুটা আসলেই খুব মজার ছিল কারণ প্রথমত আমি খুবই আগ্রহ নিয়ে পরতাম। দ্বিতীয়ত; এটা আমার বড় হবার প্রথম ধাপ। কারণ বড়রা যা করে আমি ঠিক সেই কাজটাই করছি। বলা যায় ছোট বেলায় খুব উৎসাহ নিয়ে নামাজ পরতাম। আম্মু বলত তুমি নামাজে যা চাবে আল্লাহ তোমাকে তাই দেবেন। এক কথায় "ইচ্ছে পূরণ"- ছোট্টবেলার জীবনে এর থেকে আনন্দের কিছু ছিল না। মনে আছে একবার মাগরিবের নামাজে আল্লাহর কাছে একটা আপেল চাইলাম। অনেকক্ষণ ধরে কেবল একটা আপেলের জন্যই প্রার্থনা করলাম। হঠাৎ কলিংবেল বাজল - দেখি; বাবা অফিস শেষে আসলেন আর বাবার হাতে আপেলের প্যাকেট। চার পাঁচ বছরের বাচ্চার কাছে এর থেকে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। স্রষ্টার সাথে তাই আমার ছোট্ট বেলার সম্পর্ক সত্যিই খুব সুখকর ছিল। যাই হোক বোরখার শুরুটা অনেকটা এমন ছিল যে -একদিন আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখলাম পাশ্চাত্য জামা কাপড়ের চেয়ে হিজাবে আমাকে যথেষ্ট বেশি মানায় আর সব থেকে বেশি ভাল লাগে। সেই সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জন হয়। আসলে হিজাব পরার পেছনে আমার মায়েরও অবদান ছিল। কারণ আমার মাও পর্দা করেন। ২০০৮ এ শুরু করলাম বোরখা। এর ভেতর খুব যে হিজাব পরেছি এটা বলব না বরং অধিকাংশ সময়ই পরিনি। বোরখা শুরু করার কারণটা একদিকে ছিল আমি প্রচণ্ড রকম ধার্মিক হয়ে গিয়েছিলাম এবং একই সাথে আমার বিশ্বাস ছিল বোরখা নারীকে একরকম রক্ষাও করে। আর মজার ব্যাপার ছিল you can wear anything underneath.


বোরখা আমি পরি ২০১২ সাল পর্যন্ত।আমার একটাই বোরখা ছিল। একটা বোরখার কারণ ছিল দুইটা বোরখা যে লাগতে পারে সেই চিন্তা আমার মাথায় না আসা। আর আমি ওই চারটি বছর দারুন রকম simplicity তে বিশ্বাসী ছিলাম। অনেকটা sainthood টাইপ। ২০১২ সালের পর পরিবর্তনটা আসে কারণ আমি আয়নার দিকে তাকিয়ে দিনের পর দিন একই আমিকে দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। তাই ঠিক করি বোরখার বদলে হিজাব নেওয়ার। তাই আমার চার বছরের গোলাপি বোরখার স্থান হোল ষ্টোর রুমে। তারপর আসলো রংবেরঙের হিজাব। তখনও হিজাব পরা আজকাল কার দিনের মত বোধ হয় অহরহ ছিল না। বছর গড়াতে না গড়াতেই দেখলাম আশেপাশের অনেকেই হিজাব পরে। খুবই ভালোকথা।

অতঃপর আসলো ২০১৩ সাল। হিজাব এখন বাংলাদেশে মোটামুটি একটা ফ্যাশন আইটেম। যারা হিজাব পরে অথবা হিজাব কে শ্রদ্ধা করে তারা যেন মনে না করে আমি হিজাবকে ছোট করছি। আমি বলছি হিজাব হাউজগুলোর কথা যেগুলো নানা ফ্যাশনের বা নানা ডিজাইনের হিজাব তৈরি এবং বিক্রয় করে। দুনিয়ার মানুষ ফ্যাশনে এগিয়ে যাচ্ছে হিজাবিদেরও অবশ্যই পিছিয়ে থাকা উচিত না। ব্যাপারটা ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমার এমনি মনে হত।

এখন আমার কথায় আসি। ২০১৩-২০১৪ সাল আমার জীবনের স্মরণীয় দুটি সাল। মনে হয় এই দুটি বছর জীবনে না আসলে জীবনের অনেক কিছু অচেনাই থেকে যেত। ২০১৩ সালে আমি প্রথম এ প্রশ্নের সম্মুখীন হই যে কি করে একজন স্বল্পবসনা নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রোজাদার হতে পারে। আমি আদৌ জানি না দাবীটুকু কত আংশিক সঠিক। তবু আমি এখন এত টুকু জানি এটা সম্ভব। কারণটা খুব সোজা ; একজন মানুষকে কখনো কেবল মাত্র একটা দিক থেকে বিচার করা যায় না। আর সব থেকে বড় ভুল আমি করছিলাম মানুষটিকে বিচার করে। "Being a good girl and being a good person is not actually the same thing"

অতঃপর দ্বিতীয় প্রশ্নের সম্মুখীন হলাম যখন আপাতদৃষ্টিতে হিজাব পরিহিত এবং নামাজ-রোজা কায়েমকারী এক মহিলাকে আপন পুত্র সন্তান কিংবা আপন স্বামীর প্রত্যক্ষ ব্যভিচারকে সমর্থন করতে দেখলাম। তার মানে দাড়ায় - All that glitters are not gold.

এখন আমার কথায় আসি; আমি যতটুকু জানি ইসলাম খুব সাধাসিধে জীবনকে সমর্থন করে ।এর ঐশ্বর্য এর সরলতায় । সেখানে বিত্ত বৈভব কিংবা প্রাচুর্যের রাশ ভার নেই; অহমিকা নেই; সব থেকে দামি রেস্তোরাঁয় খাওয়ার মত গাম্ভীর্যতাও নেই। এক কথায় সব থেকে সুন্দর জীবনাভিধান।

এখন বর্তমানের কথায় আসি; ফুডব্যাংক! নাই বললাম। বিশ্বাস করুন আমি একটু আগে বিখ্যাত মোস্তাকিমের চাপ থেকে ইফতারি করে আসলাম। দুই রাকাত নামাজ কাজা গেল। ইচ্ছে ছিল ইশারায় নামাজ পরে নেব। কিন্তু শুনলাম পর পুরুষের উপস্থিতিতে নামাজ হয় না। পর পুরুষের সাথে রোজা খোলা যেতে পারে কিন্তু নামাজ হবে না। এতটা কঠিন ইসলাম সেটা আগে জানতাম না। 

আমাদের কয়েকজন সহপাঠী আছেন যারা খুব সুন্দর পর্দা করেন। বিশ্বাস করুন দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। একজন মানুষ যে আল্লাহকে ভালবেসে এত সুন্দর ভাবে নিজেকে আবৃত করতে পারে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। বলে রাখা ভাল আমি পর্দাকে সম্মান করি।  কিন্তু পর্দার মূল আদর্শ যেখানে সরলতা সেখানে চোখ ধাঁধানো জরি চুমকির বাহার কত টুকু আদর্শকে ধরে রাখে সেটা আল্লাহই বলতে পারেন।

পরিশেষে আমার কথা; আমার নিবন্ধের প্রথম অংশ পরতে কারো ভাল লেগেছে কিনা জানা নেই; কিন্তু আমার আসলে ভাল লাগে নাই । ভাল লাগে নাই এ কারণে যে আমি কোন সালে কি পরিধান করেছি কি করি নাই এটা পাবলিকের বিষয় হতে পারে না। তেমনি আজ আমি কি পরছি কি পরছি না সেটাও আসলে পাবলিকের বিষয় না। যারা আমার বন্ধু  যারা আমার ভাল চায় তাদের সৎ কৌতুহলকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু আমি মনে করি না মাথার উপর তিন হাত লম্বা কাপড় আমার সমগ্র পরিচয় বহন করে। Let me find my own light.

আর বিচারের মালিক তো তিনি একজনই তাই না? তাই যার দায়িত্ব তার উপর ছেড়ে দেয়াই বোধ হয় মঙ্গল। বরং অন্যকে বিচার করতে গিয়ে যেন গীবত আর পরনিন্দার চর্চাটাও আমরা করে না ফেলি; এই ভাবনাটাও বোধ হয় থাকা দরকার আমাদের মাঝে। আমার কেন জানি মনে হয়; নিয়মের ভেতর থাকতে গিয়ে কখনো কখনো আমরা নিয়মের বাইরেই চলে যাই। নিয়ম অনিয়মের বিচারের থেকে বোধ হয় ভ্রাতৃত্ববোধটা বেশি জরুরী। আর যাই হোক; ইসলাম  শব্দটি এসেছে استسلاما শব্দ থেকে; যার سلام শব্দটির অর্থ "শান্তি" ।



বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০১৫

কিছু কবিতা

                         তুমি

তুমি এসো ঘুম বালিশে;চায়ের কাপে রোজ অফিসে , 
পুরনো সব খাতার ভাজে- অগোছালো লেখার মাঝে , 
হাজার মিথ্যে কথার ভিড়ে,  অর্থহীন স্বপ্ন জুড়ে ; 
 তুমি এসো ক্লান্ত মনে - শেষ বিকেলের শেষ ক্ষণে ,  
তবুও এসো, দিনের শেষে , পলাতক রাজার বেশে । 
তুমি এসো বৃষ্টি দিনে ,আমার মেঘলা অভিমানে , 
এসো তুমি ছায়ার মত ;একলা পথে ইচ্ছে  যত ; 
তুমি এসো দুষ্টুমিতে - উচ্ছলতায় পাগলামিতে ।
 শেষ রাতের বৃষ্টিতে ; আমার মনের আরশিতে 
তবুও এসো ;
 আসবে তুমি - প্রতীক্ষায় ; তিথির শেষে অমানিশায় ;  
রাখবো আমি মুঠোয় ভরে , জোছনাটাকে তোমার ঘরে।

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫

অন্যরকম

নির্ঘুম রাতগুলো অন্যরকম। ক্যাডেট কলেজে থাকতে এরকম রাতে ঝি ঝি পোকার ডাক শোনা যেত। আজ আর তেমনটা যায় না। এখন জেগে থাকলে আর মাথার ভেতর ঘূর্ণায়মান চিন্তাসমষ্টি না থাকলে এখন কার রাত গুলোতে আমার মত জেগে থাকা মানুষের অস্তিত্তের শব্দ শোনা যায়। জেগে থাকাটা খুব উপভোগ্য হয় না।রাতের ঐশ্বর্য এখানে তেমন নেই। তাই চিন্তাহীন রাতগুলো নিঝুম আর অন্যরকম।আর চিন্তার রাতগুলো দুর্বিষহ। এদের ভেতরে মিল একটাই দুটো রাতের একটাতেও ঘুম আসে না। প্রতি রাতে ভাবি আমি কি হতে চেয়েছিলাম কিংবা দুই তিন বছরের আগের রাতে আমি কি ভাবতাম এই জীবন সম্পর্কে। কিছুতেই কোন হিসাব মেলে না। শুধু বুঝতে পারি অনেক বিবর্তিত হয়েছি, শুধু আমি যে তা নয় , আমার পুরো পৃথিবী। পৃথিবী সম্পর্কে আমার ধারণাই পাল্টে গেছে। এই আমি কত বোকা ছিলাম, ভাবতাম পৃথিবীটা গোল।মানুষগুলো কত সহজ ছিল। বিবর্তনের ভালো দিক এই যে হয়ত সবাইকে এখন সোজা ভাবে দেখি না। মাঝে মাঝে মনে হয় এই চিন্তাধারাটা আরও পরে বদলালে ভালো হত। কিছু জীবন বেচে যেত। কিছু ভুল ধারণা নিয়ে আরও কয়টা দিন ভালোয় কাটিয়ে দিতাম। এই তো সেদিন দেশের জন্য কত কিছু করব ভাবছিলাম , আর এখন যে কটা দিন বেচে আছি শুধু বাঁচতে চাই। বিবর্তনের আরেক বৈচিত্র্য অনুভূতি। দুই এক বছর আগেও যে অনুভূতিগুলো সম্পর্কে জানতাম না, সেগুলো এখন আমার ভেতর চাক্ষুস বিদ্যমান । তবু কিছু জিনিস কখনো পাল্টায় না, এই আমি চিরাচরিত ভাবে আজীবন বোকা রয়ে যাই। কোনদিন বুদ্ধিমান হওয়া হয় না।