নির্ঘুম রাতগুলো অন্যরকম। ক্যাডেট কলেজে থাকতে এরকম রাতে ঝি ঝি পোকার ডাক শোনা যেত। আজ আর তেমনটা যায় না। এখন জেগে থাকলে আর মাথার ভেতর ঘূর্ণায়মান চিন্তাসমষ্টি না থাকলে এখন কার রাত গুলোতে আমার মত জেগে থাকা মানুষের অস্তিত্তের শব্দ শোনা যায়। জেগে থাকাটা খুব উপভোগ্য হয় না।রাতের ঐশ্বর্য এখানে তেমন নেই। তাই চিন্তাহীন রাতগুলো নিঝুম আর অন্যরকম।আর চিন্তার রাতগুলো দুর্বিষহ। এদের ভেতরে মিল একটাই দুটো রাতের একটাতেও ঘুম আসে না। প্রতি রাতে ভাবি আমি কি হতে চেয়েছিলাম কিংবা দুই তিন বছরের আগের রাতে আমি কি ভাবতাম এই জীবন সম্পর্কে। কিছুতেই কোন হিসাব মেলে না। শুধু বুঝতে পারি অনেক বিবর্তিত হয়েছি, শুধু আমি যে তা নয় , আমার পুরো পৃথিবী। পৃথিবী সম্পর্কে আমার ধারণাই পাল্টে গেছে। এই আমি কত বোকা ছিলাম, ভাবতাম পৃথিবীটা গোল।মানুষগুলো কত সহজ ছিল। বিবর্তনের ভালো দিক এই যে হয়ত সবাইকে এখন সোজা ভাবে দেখি না। মাঝে মাঝে মনে হয় এই চিন্তাধারাটা আরও পরে বদলালে ভালো হত। কিছু জীবন বেচে যেত। কিছু ভুল ধারণা নিয়ে আরও কয়টা দিন ভালোয় কাটিয়ে দিতাম। এই তো সেদিন দেশের জন্য কত কিছু করব ভাবছিলাম , আর এখন যে কটা দিন বেচে আছি শুধু বাঁচতে চাই। বিবর্তনের আরেক বৈচিত্র্য অনুভূতি। দুই এক বছর আগেও যে অনুভূতিগুলো সম্পর্কে জানতাম না, সেগুলো এখন আমার ভেতর চাক্ষুস বিদ্যমান । তবু কিছু জিনিস কখনো পাল্টায় না, এই আমি চিরাচরিত ভাবে আজীবন বোকা রয়ে যাই। কোনদিন বুদ্ধিমান হওয়া হয় না।