মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০১৫

পর্দা

প্রথমেই বলে নেই আমি ধর্মীয় কিংবা স্পর্শকাতর কোন বিষয় নিয়ে কথা বলা পছন্দ করি না। বিশেষত যে বিষয় নিয়ে আমার জ্ঞান কম (মোটামুটি শূন্যের কাছাকাছি ) সে সকল বিষয় নিয়ে কথা বলা আমার এখতিয়ারের ভেতর পরে না। তবু এ নিবন্ধের নাম "পর্দা" কেন না এ নিবন্ধ আমার একান্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা। আমার ভুল হতেই পারে এবং আমি যা দেখেছি বা যতটুকু অনুভুতি দিয়ে বুঝেছি এর সবটুকু অবশ্যই সঠিক নয়। তবে এটাও ঠিক আমার মত পৃথিবীর ঠিক একই প্রান্ত থেকে একই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা আমার সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত দ্বিতীয় একজনের পক্ষে পর্যবেক্ষণ করা প্রায় অসম্ভব।

এবার মূল নিবন্ধে আসি; আমি পর্দা করা শুরু করি খুব সম্ভব ২০০৫ থেকে। ক্লাস সেভেনে পরি তখন। হিজাব শুরু করাটা একটু ইন্টারেস্টিং কারণ ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল হঠাৎ করে ভেতর থেকে। ইংলিশে যেটাকে বলে Realization. আমি নামাজ পরি মোটামুটি ছোটবেলা থেকেই ; যখন থেকে একজন মানুষের সাথে স্রষ্টার পরিচয় হয় মোটামুটি তখন থেকেই। নামাজ পরার শুরুটা আসলেই খুব মজার ছিল কারণ প্রথমত আমি খুবই আগ্রহ নিয়ে পরতাম। দ্বিতীয়ত; এটা আমার বড় হবার প্রথম ধাপ। কারণ বড়রা যা করে আমি ঠিক সেই কাজটাই করছি। বলা যায় ছোট বেলায় খুব উৎসাহ নিয়ে নামাজ পরতাম। আম্মু বলত তুমি নামাজে যা চাবে আল্লাহ তোমাকে তাই দেবেন। এক কথায় "ইচ্ছে পূরণ"- ছোট্টবেলার জীবনে এর থেকে আনন্দের কিছু ছিল না। মনে আছে একবার মাগরিবের নামাজে আল্লাহর কাছে একটা আপেল চাইলাম। অনেকক্ষণ ধরে কেবল একটা আপেলের জন্যই প্রার্থনা করলাম। হঠাৎ কলিংবেল বাজল - দেখি; বাবা অফিস শেষে আসলেন আর বাবার হাতে আপেলের প্যাকেট। চার পাঁচ বছরের বাচ্চার কাছে এর থেকে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। স্রষ্টার সাথে তাই আমার ছোট্ট বেলার সম্পর্ক সত্যিই খুব সুখকর ছিল। যাই হোক বোরখার শুরুটা অনেকটা এমন ছিল যে -একদিন আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখলাম পাশ্চাত্য জামা কাপড়ের চেয়ে হিজাবে আমাকে যথেষ্ট বেশি মানায় আর সব থেকে বেশি ভাল লাগে। সেই সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জন হয়। আসলে হিজাব পরার পেছনে আমার মায়েরও অবদান ছিল। কারণ আমার মাও পর্দা করেন। ২০০৮ এ শুরু করলাম বোরখা। এর ভেতর খুব যে হিজাব পরেছি এটা বলব না বরং অধিকাংশ সময়ই পরিনি। বোরখা শুরু করার কারণটা একদিকে ছিল আমি প্রচণ্ড রকম ধার্মিক হয়ে গিয়েছিলাম এবং একই সাথে আমার বিশ্বাস ছিল বোরখা নারীকে একরকম রক্ষাও করে। আর মজার ব্যাপার ছিল you can wear anything underneath.


বোরখা আমি পরি ২০১২ সাল পর্যন্ত।আমার একটাই বোরখা ছিল। একটা বোরখার কারণ ছিল দুইটা বোরখা যে লাগতে পারে সেই চিন্তা আমার মাথায় না আসা। আর আমি ওই চারটি বছর দারুন রকম simplicity তে বিশ্বাসী ছিলাম। অনেকটা sainthood টাইপ। ২০১২ সালের পর পরিবর্তনটা আসে কারণ আমি আয়নার দিকে তাকিয়ে দিনের পর দিন একই আমিকে দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। তাই ঠিক করি বোরখার বদলে হিজাব নেওয়ার। তাই আমার চার বছরের গোলাপি বোরখার স্থান হোল ষ্টোর রুমে। তারপর আসলো রংবেরঙের হিজাব। তখনও হিজাব পরা আজকাল কার দিনের মত বোধ হয় অহরহ ছিল না। বছর গড়াতে না গড়াতেই দেখলাম আশেপাশের অনেকেই হিজাব পরে। খুবই ভালোকথা।

অতঃপর আসলো ২০১৩ সাল। হিজাব এখন বাংলাদেশে মোটামুটি একটা ফ্যাশন আইটেম। যারা হিজাব পরে অথবা হিজাব কে শ্রদ্ধা করে তারা যেন মনে না করে আমি হিজাবকে ছোট করছি। আমি বলছি হিজাব হাউজগুলোর কথা যেগুলো নানা ফ্যাশনের বা নানা ডিজাইনের হিজাব তৈরি এবং বিক্রয় করে। দুনিয়ার মানুষ ফ্যাশনে এগিয়ে যাচ্ছে হিজাবিদেরও অবশ্যই পিছিয়ে থাকা উচিত না। ব্যাপারটা ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমার এমনি মনে হত।

এখন আমার কথায় আসি। ২০১৩-২০১৪ সাল আমার জীবনের স্মরণীয় দুটি সাল। মনে হয় এই দুটি বছর জীবনে না আসলে জীবনের অনেক কিছু অচেনাই থেকে যেত। ২০১৩ সালে আমি প্রথম এ প্রশ্নের সম্মুখীন হই যে কি করে একজন স্বল্পবসনা নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রোজাদার হতে পারে। আমি আদৌ জানি না দাবীটুকু কত আংশিক সঠিক। তবু আমি এখন এত টুকু জানি এটা সম্ভব। কারণটা খুব সোজা ; একজন মানুষকে কখনো কেবল মাত্র একটা দিক থেকে বিচার করা যায় না। আর সব থেকে বড় ভুল আমি করছিলাম মানুষটিকে বিচার করে। "Being a good girl and being a good person is not actually the same thing"

অতঃপর দ্বিতীয় প্রশ্নের সম্মুখীন হলাম যখন আপাতদৃষ্টিতে হিজাব পরিহিত এবং নামাজ-রোজা কায়েমকারী এক মহিলাকে আপন পুত্র সন্তান কিংবা আপন স্বামীর প্রত্যক্ষ ব্যভিচারকে সমর্থন করতে দেখলাম। তার মানে দাড়ায় - All that glitters are not gold.

এখন আমার কথায় আসি; আমি যতটুকু জানি ইসলাম খুব সাধাসিধে জীবনকে সমর্থন করে ।এর ঐশ্বর্য এর সরলতায় । সেখানে বিত্ত বৈভব কিংবা প্রাচুর্যের রাশ ভার নেই; অহমিকা নেই; সব থেকে দামি রেস্তোরাঁয় খাওয়ার মত গাম্ভীর্যতাও নেই। এক কথায় সব থেকে সুন্দর জীবনাভিধান।

এখন বর্তমানের কথায় আসি; ফুডব্যাংক! নাই বললাম। বিশ্বাস করুন আমি একটু আগে বিখ্যাত মোস্তাকিমের চাপ থেকে ইফতারি করে আসলাম। দুই রাকাত নামাজ কাজা গেল। ইচ্ছে ছিল ইশারায় নামাজ পরে নেব। কিন্তু শুনলাম পর পুরুষের উপস্থিতিতে নামাজ হয় না। পর পুরুষের সাথে রোজা খোলা যেতে পারে কিন্তু নামাজ হবে না। এতটা কঠিন ইসলাম সেটা আগে জানতাম না। 

আমাদের কয়েকজন সহপাঠী আছেন যারা খুব সুন্দর পর্দা করেন। বিশ্বাস করুন দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। একজন মানুষ যে আল্লাহকে ভালবেসে এত সুন্দর ভাবে নিজেকে আবৃত করতে পারে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। বলে রাখা ভাল আমি পর্দাকে সম্মান করি।  কিন্তু পর্দার মূল আদর্শ যেখানে সরলতা সেখানে চোখ ধাঁধানো জরি চুমকির বাহার কত টুকু আদর্শকে ধরে রাখে সেটা আল্লাহই বলতে পারেন।

পরিশেষে আমার কথা; আমার নিবন্ধের প্রথম অংশ পরতে কারো ভাল লেগেছে কিনা জানা নেই; কিন্তু আমার আসলে ভাল লাগে নাই । ভাল লাগে নাই এ কারণে যে আমি কোন সালে কি পরিধান করেছি কি করি নাই এটা পাবলিকের বিষয় হতে পারে না। তেমনি আজ আমি কি পরছি কি পরছি না সেটাও আসলে পাবলিকের বিষয় না। যারা আমার বন্ধু  যারা আমার ভাল চায় তাদের সৎ কৌতুহলকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু আমি মনে করি না মাথার উপর তিন হাত লম্বা কাপড় আমার সমগ্র পরিচয় বহন করে। Let me find my own light.

আর বিচারের মালিক তো তিনি একজনই তাই না? তাই যার দায়িত্ব তার উপর ছেড়ে দেয়াই বোধ হয় মঙ্গল। বরং অন্যকে বিচার করতে গিয়ে যেন গীবত আর পরনিন্দার চর্চাটাও আমরা করে না ফেলি; এই ভাবনাটাও বোধ হয় থাকা দরকার আমাদের মাঝে। আমার কেন জানি মনে হয়; নিয়মের ভেতর থাকতে গিয়ে কখনো কখনো আমরা নিয়মের বাইরেই চলে যাই। নিয়ম অনিয়মের বিচারের থেকে বোধ হয় ভ্রাতৃত্ববোধটা বেশি জরুরী। আর যাই হোক; ইসলাম  শব্দটি এসেছে استسلاما শব্দ থেকে; যার سلام শব্দটির অর্থ "শান্তি" ।



বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০১৫

কিছু কবিতা

                         তুমি

তুমি এসো ঘুম বালিশে;চায়ের কাপে রোজ অফিসে , 
পুরনো সব খাতার ভাজে- অগোছালো লেখার মাঝে , 
হাজার মিথ্যে কথার ভিড়ে,  অর্থহীন স্বপ্ন জুড়ে ; 
 তুমি এসো ক্লান্ত মনে - শেষ বিকেলের শেষ ক্ষণে ,  
তবুও এসো, দিনের শেষে , পলাতক রাজার বেশে । 
তুমি এসো বৃষ্টি দিনে ,আমার মেঘলা অভিমানে , 
এসো তুমি ছায়ার মত ;একলা পথে ইচ্ছে  যত ; 
তুমি এসো দুষ্টুমিতে - উচ্ছলতায় পাগলামিতে ।
 শেষ রাতের বৃষ্টিতে ; আমার মনের আরশিতে 
তবুও এসো ;
 আসবে তুমি - প্রতীক্ষায় ; তিথির শেষে অমানিশায় ;  
রাখবো আমি মুঠোয় ভরে , জোছনাটাকে তোমার ঘরে।

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫

অন্যরকম

নির্ঘুম রাতগুলো অন্যরকম। ক্যাডেট কলেজে থাকতে এরকম রাতে ঝি ঝি পোকার ডাক শোনা যেত। আজ আর তেমনটা যায় না। এখন জেগে থাকলে আর মাথার ভেতর ঘূর্ণায়মান চিন্তাসমষ্টি না থাকলে এখন কার রাত গুলোতে আমার মত জেগে থাকা মানুষের অস্তিত্তের শব্দ শোনা যায়। জেগে থাকাটা খুব উপভোগ্য হয় না।রাতের ঐশ্বর্য এখানে তেমন নেই। তাই চিন্তাহীন রাতগুলো নিঝুম আর অন্যরকম।আর চিন্তার রাতগুলো দুর্বিষহ। এদের ভেতরে মিল একটাই দুটো রাতের একটাতেও ঘুম আসে না। প্রতি রাতে ভাবি আমি কি হতে চেয়েছিলাম কিংবা দুই তিন বছরের আগের রাতে আমি কি ভাবতাম এই জীবন সম্পর্কে। কিছুতেই কোন হিসাব মেলে না। শুধু বুঝতে পারি অনেক বিবর্তিত হয়েছি, শুধু আমি যে তা নয় , আমার পুরো পৃথিবী। পৃথিবী সম্পর্কে আমার ধারণাই পাল্টে গেছে। এই আমি কত বোকা ছিলাম, ভাবতাম পৃথিবীটা গোল।মানুষগুলো কত সহজ ছিল। বিবর্তনের ভালো দিক এই যে হয়ত সবাইকে এখন সোজা ভাবে দেখি না। মাঝে মাঝে মনে হয় এই চিন্তাধারাটা আরও পরে বদলালে ভালো হত। কিছু জীবন বেচে যেত। কিছু ভুল ধারণা নিয়ে আরও কয়টা দিন ভালোয় কাটিয়ে দিতাম। এই তো সেদিন দেশের জন্য কত কিছু করব ভাবছিলাম , আর এখন যে কটা দিন বেচে আছি শুধু বাঁচতে চাই। বিবর্তনের আরেক বৈচিত্র্য অনুভূতি। দুই এক বছর আগেও যে অনুভূতিগুলো সম্পর্কে জানতাম না, সেগুলো এখন আমার ভেতর চাক্ষুস বিদ্যমান । তবু কিছু জিনিস কখনো পাল্টায় না, এই আমি চিরাচরিত ভাবে আজীবন বোকা রয়ে যাই। কোনদিন বুদ্ধিমান হওয়া হয় না।

রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৪

মধ্যবিত্ত

আমরা যারা মধ্যবিত্ত তাদের জীবনটা অনেকটা শুককীট থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি হবার মতো। আমাদের ছোটবেলা কাটে রঙ তুলির আঁচড়ে স্বপ্ন বুনতে বুনতে। একটু বড় হলে বাবা মা ব্যাস্ত হয়ে যান শহরের নামকরা স্কুলগুলোতে ভর্তি করতে। সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা বড় হতে শিখে যাই। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও অনেক সময় বিশাল অংকের ডোনেশনের জন্য ভাল স্কুলগুলোতে পড়া হয় না আমাদের। আমাদের বাবা মা এপ্রান্ত ওপ্রান্ত ঘোরাঘুরি করে, মন্ত্রী মিনিস্টারের হাতে পায়ে ধরেও সেই বিশাল অঙ্কের বোঝা কমাতে পারেন না। মন্ত্রী মিনিস্টাররা আমাদের কাজে আসেন না। আমাদের ভর্তি হতে হয় পাড়ার বেনামী কোন স্কুলে। তারপরও আমাদের দৌড় চলতে থাকে। স্কুলে ভাল রেজাল্ট করার দৌড়, দৌড়ে প্রথম হয়ে শখের বইটা জেতার দৌড়। কারণ, এতগুলো বই আমাদের বাবা মার কিনে দেবার সামর্থ্য নেই। তাই আমাদের দৌড়ে জিততে হয়। সবাইকে পেছনে ফেলে জিততে হয়। স্কুল পেড়িয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি সেখানেও দৌড়।আমাদের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে হয় কারণ সেই একই। আমাদের বাবা মা সেই বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়ে আমাদের প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোতে পড়ানোর সামর্থ্য রাখেন না। আর যদিও বা আমরা কোন ভাবে সেই প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোতে ঢুকে পড়ি , তখন আমাদের দিনের বেশির ভাগ সময় যায় ছাত্র পড়ানোর জন্য এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে। আর এদিকে উপবৃত্তির চাপ তো আছেই। সারাদিন ছাত্র পড়িয়ে যদি রেজাল্টটা খারাপ করে ফেলি; তবে এ বারের বৃত্তিটা গেল বলে। আমাদের সকালটা শুরু হয় পাবলিক বাসের ঠেসাঠেসিতে,ঘামের দুর্গন্ধময় সীটে যেখানে রোজকার দিন মুরগী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আলু পটলের দোকানিরা তাদের মাল নিয়ে যান।এর ভাল দিক বলতে এই যে, এদের আমরা মানুষ বলে চিনতে পারি।কোনদিন যদি প্রাইভেট কারে চড়েও বসি তখনও এই বাস টেম্পুতে ঝুলে যাওয়া মানুষগুলোকে মানুষই মনে হয়, পোকা মাকড় মনে হয় না। কারণ আমরাও একদিন তাদের দলে ছিলাম। আমাদের সঞ্চয় শুরু হয় সেই স্কুলের টিফিনের দু টাকা বাঁচিয়ে লেমন জুস কেনা থেকে।আমরা সেই ছোট বেলা থেকে স্বাবলম্বী হবার কথা ভাবি কারণ সেটাই আমাদের মুক্তির একমাত্র পথ। আমাদের স্বপ্নের রোজ মৃত্যু হয় কিন্তু রোজ আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখি। আমাদের ছেলেদের পকেটে হাত খরচের টাকা যে টুকু বাঁচে তা দিয়ে আমরা সাথীকে সোনার চেইন দেওয়ার সাহস করি না, কিংবা বড় কোন রেস্তোরায়ও নিয়ে যাওয়ার সাহস করি না। তার জন্মদিনে হয়ত এক মুঠো গোলাপ অথবা একটা বই; এর বেশি দেবার সাধ্য আমাদের হয় না। কিন্তু সেই বিশেষ এক জনের জন্য বছরের একটা তারিখ মনে রাখা, টিউশনির মাস শেষের বেতন ভাঙিয়ে তার জন্য অতি কষ্টে কিছু একটা কেনার সুখ শুধু আমরাই বুঝি। আমাদের মেয়েরাও সেই একই ভাবে কোনদিন ঝুলতে ঝুলতে আবার কোনদিন ভিড়ের চাপে লোকজনের পায়ে চাপা খেয়ে রোজ ক্লাসে আসে। কোনদিন যদি কোন এক সহযাত্রী দয়াবশত তার সিটটা ছেড়ে বসতে দেন তখন তাকে ফেরেশতা বলে মনে হয়।আমাদের মেয়েরা খুব বেশি স্বপ্ন দেখে না, কারণ সে ভাল করেই জানে যে সে কোন রাজকুমারী নয়। বরং সে হয়তবা কোন পরিবারের একমাত্র সম্বল। পড়াশোনা শেষমাত্র সংসারের হালটা হয়ত তাকেই ধরতে হবে।কিন্তু তারপরও মধ্যবিত্তের কিছু সুখ আছে, কিছু অপ্রয়োজনীয় অহংকার আছে। যেমন আমরা সমাজের এমন এক অংশ যারা বিন্দু থেকে সিন্ধু রচনা করি।আমাদের ওঠাবসা সমাজের উচু থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত। তাই হঠাৎ উচুতে উঠে ধরাকে সরা জ্ঞান করার ভয় নেই আমাদের।সম্পর্কের মূল্য আমরা বুঝি,কারণ শ্রান্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পর সহধর্মিণীর ওই হাসিটাই আমাদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।দ্বিতীয় কোন পুরুষ বা নারীর প্রয়োজন হয় না কারণ আমরা ছোট বেলা থেকেই যেটুকু আছে সেটুকু খড় কুটোর মতো আঁকড়ে ধরে বাঁচতে শিখি। ছোট বেলা থেকেই সামাজিক রীতি নীতি আমাদের ভেতর এমন করে খোঁদাই করা হয়েছে যে এর বাইরে যেতে আমরা ভয় পাই। তাই রাতের বেলা ক্লাবিং এর থেকে ছাদের ওপর ঠাণ্ডা বাতাসই আমাদের কাছে বেশি আনন্দায়ক মনে হয়। আর তাই এই রীতি নীতি,আচার আচরণ যদি মধবিত্তের সস্তা অহংকার হয়, তবে নির্দ্বিধায় আমি অহংকারী।

শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০১৪

এক বিকেলে

: "কখনো খুব মন খারাপ হলে কি করেন ?"
:"দুহাতে রঙ্গিন আবীর মেখে নেই
মন খারাপের রঙগুলোকে মেঘের ঘরে পৌঁছে দেই "
:"যদি এরপরও; যদি এরপরও সেই আকাশ ভেঙ্গে বর্ষা নামে;
যদি মাঠ ঘাট পথ একাকার করে কাদা মাটির সলতে ভেঙ্গে বর্ষা নামে-
যদি  এক চিলতে আলো ধরতে গিয়ে দু হাত পুড়ে যায়;"
:"তবে কিছু জোনাকির মতো আলোর প্রদীপ জ্বেলে আজীবন এই ভাঙ্গা মাটির ঘরে রয়ে যাবো "
:"আর যদি কোনদিন আমি ফিরে না আসি-
যদি এক পশলা বৃষ্টি শেষে আকাশ জুড়ে রামধনু না জাগে,
যদি আমি আর না ফিরি ?"
:"তারাগুলো কি আজীবন এক জায়গায় থাকে নাকি, কখনো কখনো তারাদের মৃত্যু হয়, তারাও আর ফেরে না।"
:"তবে আমি কোন তারা হবো ?"
:"তারা নয়, তারামণ্ডলী হও, সপ্তর্ষি হও তুমি, আমার জন্য তোমার সপ্তাশ্চর্য নিয়ে আজীবন এক প্রশ্ন হয়ে থাকো"  
 

যতটুকু বলা উচিত

আমি হয়ত খুব পুরনো যুগের মানুষ। পুরনো ধ্যান ধারণা, আচার আচরণ, রীতি নীতি ...।নিজেকে আমি সংস্কারবাদী বলবনা । তবে প্রগতিশীলতা যদি নগ্নতা হয় তবে অবশ্যই আমি পুরনো যুগের মানুষ। কিন্তু এরপরও বলব সভ্যতা কখনো নগ্নতাকে সমর্থন করে না। ব্যাভিচার কখনো সমাজের অংশ হতে পারে না। শরীর প্রদর্শনও সভ্যতা নয়।আমি ধর্মের কথা বলব না। কারণ তা অনেকেই মানে না । আমাদের পাপরাশির কাছে আমাদের ধর্ম একেবারে শিশু।এখন ধর্ম মেনে চললে সব থেকে বোকা বনে যেতে হয়। ধর্মের নামে অধর্ম করার মানুষেরও সংসারে অভাব নেই। ধর্ম এখন অতি পুরনো সহজ ব্যবসা। তাই ধর্মের কথা না হয় বাদই থাকলো।যারা নগ্নতা সমর্থন করে তারা যে ধর্মের তোয়াক্কা করে না, এটা বোঝার মতো জ্ঞানও আমার হয়েছে ।কিন্তু অঙ্গ প্রদর্শন যদি বুদ্ধিবৃত্তিক আধুনিক সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে তাহলে পশু পাখিরাও আধুনিক। আর Just chilling এর মতো তোমরা যে শব্দগুলো উচ্চারণ কর। তা পশু পাখিদের ধ্বনির মতই শোনায়।তবুও আমার এদের প্রতি কৌতূহল হয় , ভীষণ রকম কৌতূহল হয়। আমার অনেক জানতে ইচ্ছে হয় এদের মগজটা আসলে কি দিয়ে তৈরি।বলছি না তুমি সব কিছু ঢেকে নিকাব পরে বসে থাকো। এই অধিকার আমার নাই। কিন্তু যাদের সৌন্দর্য প্রকাশে শরীর দেখানো আবশ্যকীয় তাদের মগজের উপস্থিতি সম্পর্কে আমি ভেটো দিতেই পারি। বলতে পারো শরীরটা তোমাদের  কিন্তু চোখটাও তো আমার । আর যেহেতু আমি অন্ধ নই, কথা বলার অধিকারও আমার আছে। দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্য যাই বলি , কিছু ব্যাতিক্রম দম্পতি দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। তারা দলিল দস্তাবেজে স্বামী স্ত্রী । কিন্তু স্ত্রীর পাশে স্বামীকে খুব কম সময়ই দেখা যায় যতটা না স্ত্রীর ছেলে বন্ধুদের দেখা যায়। স্ত্রীটি প্রবাসী , মাঝে মধ্যেই ডাক্তার স্বামীটিকে নিজ দেশে নিয়ে যান। নিজ দেশ বললাম কারণ তারা সেটাকে নিজের দেশই মনে করেন। স্বামী স্ত্রী দুজনই জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। স্ত্রীটি মাঝে মধ্যেই নাইট ক্লাবগুলো তে চেক ইন দেন। রোজার মাসে তাকে হিজাব পরতে দেখা যায়। কিন্তু ঈদ আসলেই তিনি কাপড়ের পরিধিতে সানি লিওনকেও হার মানান। উনি আবার সানি লিওনের দারুন ভক্ত । কিন্তু আমার প্রশ্ন স্বামীটিকে নিয়ে , কি করে লোকটি এত ধৈর্যশীল!! হতে পারেন । জানি না বিধাতা ওনাকে কি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এত ধৈর্য এবং সংযম আছে বোধ করি বৈকি স্ত্রীকে অপর পুরুষের সাথে নাচতে দেখলে তিনি বিচলিত হন না। সত্যই তাহলে পুরুষ নারীকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছে। নাহ, নারী স্বাধীনতা নিয়ে আমার মনে কোন প্রশ্ন নাই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে সংসার জীবনে ব্যাক্তি স্বাধীনতা মানে কি? ব্যক্তি স্বাধীনতা মানে কি এই যে তুমি তোমার অর্ধাঙ্গ বা অর্ধাঙ্গীকে শুধু কাগজে কলমেই আটকে রাখবে। যেখানে হৃদয়ের বন্ধন নেই সেখানে কাগজ কলমের জোর কতটুকু। যার সাথে আত্মাটুকুই ভাগ করতে পারো না সেখানে বিছানাটা ভাগ করা অযৌক্তিক। আমি জানি আমার কথায় কিচ্ছু হবে না , এই মুহূর্তেই কোন ভণ্ড মুসলমান আমার কথা শুনে তার ভণ্ডামিটুকু ত্যাগ করবেন না।  নিজে থেকে না চাইলে স্বয়ং বিধাতাও তার অন্তরের পরিবর্তন করেন না। তবু আমি চাই স্বাধীনতার এই মানেটুকু শুধু বদলাক। মানুষ একজন  মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালোবাসুক। স্বাধীনতা মানে কখনো ব্যাভিচার নয়। 

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪

একদা প্রেম...

"আমি একদিন প্রেমে পরলাম । ভীষণ রকম প্রেমে পরলাম । সত্যি বলতে এই প্রেম থেকে উঠার কোন ধরনের ইচ্ছাও আমার ছিল না। অনেকটা রূপে গুনে মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পড়া না। প্রেমে পরব না বলতে বলতে হঠাৎ আবিষ্কার করা যে আমি আসলে প্রেমে পরে গিয়েছি। ডাঙ্গাতে মাছের যে অবস্থা হয় আমার প্রানের অবস্থা টাও সেই এক ই হলো। আর নিজেকে মনে হতে লাগলো অমবশ্যার চাঁদের মত। যে কিনা নিজের উপস্থিতি নিয়েই লজ্জিত।

বালিকা কাল থেকেই প্রেম নিয়ে আমার মনে চরম শঙ্কা আর উদ্বেগ কাজ করত। পৃথিবীতে জীবন ধারনের জন্য এত বিষয় থাকতেও মানুষ যে কেন প্রেমে পরে সেই বিষয়টা নিয়ে আমি যারপরনাই চিন্তিত ছিলাম। প্রেমে পরার অনাবশ্যকতা এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ সম্পর্কে সুযোগ পেলেই জ্ঞান দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করতাম।সে কথা নাহয় এখন থাক।আমি আমার প্রেমের কথায় আসি। হুম, একদা এই আমি প্রেমে পরলাম । এখানে কার প্রেমে পড়েছি সেটা জরুরী না। তবুও যেহেতু আমার 'তার' প্রসঙ্গ এখানে আসছে, এটা বলে রাখা যায় যে- আমি অতন্ত বদ একটা ছেলের প্রেমে পরলাম ।

যে বস্তু বিশ্বাস করি না সেই বস্তুটি প্রতি মুহূর্ত লালন করা কষ্টদায়ক। কিন্তু তারপরও আমি প্রেমে পরলাম ।

নানা জনের নানা মত নিলাম, পর্যবেক্ষণ করলাম। অনেকটা নিজের প্রেম কে এইচ এস সির জীববিজ্ঞান এর অসহায় ব্যাঙ টার মত কাটাকুটি করলাম। কিন্তু সব কিছুর শেষে এই সিধান্তে আসলাম যে আমি আসলেই প্রেমে পরেছি । কিন্তু আমি প্রেমে পরলে পাবলিকের কি আসে যায়? না আসলেই কিছু আসে যায় না। একটি বালিকা তার জীবনের কোন না কোন সময় প্রেমে পরবে এটা খুবই স্বাভাবিক।তা এত ঘটা করে বলার কি আছে?

না আমি আসলে আমার প্রেমের গল্প বলতেও এই লেখাটা লিখি নাই। আমি যার প্রেমে পরেছি সে আমার প্রেমিক ও না। আমিও তার প্রেমিকা কিনা সন্দেহ। ছোট বেলা থেকেই আমি অনুভুতি নিয়ে খেলতে ভালবাসি। আমি আমার অনুভুতির কথাই বলব। পরিসংখ্যান বলে এ আমার প্রথম প্রেম। প্রথম প্রেম বললাম এ কারণে যে আমি এক এবং একমাত্র প্রেমে বিশ্বাস করি না। মানুষ ভালবাসবে, কষ্ট পাবে ।আমি বিশ্বাস করি বিধাতা মানুষ কে অনেক বড় হৃদয় দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন । তার সৃষ্টির efficiency এত কম হতে পারে না । তবুও আমরা কারণে অকারণে বিশেষ কিছু মানুষের প্রেমে পরি ,কেন পড়ি এটা হয়ত বিধাতার কোন রহস্য।

সুতরাং আমি অনেকটা নোঙ্গর হীন জাহাজের মত প্রেমে পরলাম।আমার কাছে প্রেমে পরাটা অনেকটা অ্যালার্ম দেওয়া নষ্ট ঘড়ির মত । যেটা সময় অসময়ে এবং অনেকটা নিয়মিত ভাবে আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে আমি প্রেমে পরেছি । মাঝে মাঝে মনে হয় এখানে মানুষটা মুখ্য না, প্রেম টাই মুখ্য । অর্থাৎ আমি প্রেমে পরেছি এবং একজন মানুষের প্রেমে পরেছি। নতুন প্রেমের অভিজ্ঞতা বলতে এটুকু বলা যায় যে আমি এখন একটা আংশিক তরল এবং গ্যাসীয় অবস্থার মধ্যে বিরাজমান । অর্থাৎ আমার ভুবনের অনেকটাই কাল্পনিক । আর খুব কম অংশই বাস্তব।

এতকিছুর পরও আমি প্রেমে পরলাম। প্রেম যেহেতু মনের ব্যাপার আর মন যেহেতু দেখা যায় না। সেহেতু এক রাশ লাল গোলাপ নিয়ে প্রেম নিবেদন বা বিতরনের পক্ষপাতি আমি নই। সোরগোল করে বলার মতন ও নয়। তারপরও কেন বললাম? হ্যাঁ যে মানুষটার প্রেমে পরেছি হয়ত তার জন্যই বললাম। তাকে তো র কানে কানে গিয়ে বলে আসা সম্ভব না, কিংবা এই পোস্ট এর মাধ্যমে তাকে জানাবো ??? - এতটা খারাপ performer আমি নই। সুতরাং প্রেম হৃদয়েই থাক।

আমার এত বড় প্যাঁচালের সারমর্ম এই যে, ভালোবাসা জিনিসটা আসলেই ভয়ানক। কিন্তু কাউকে ভালবাসায় আসলে অনেক আনন্দ আছে।তবে সেটা প্রেম হতে হবে তা জরুরী না। মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছা করে,আমি যে মানুষটাকে ভালবাসি সে যদি জীবনের কোন এক সময় জানতে পারে তার অগোচরে একটা মানুষ তাকে ভালবেসে ছিল, তখন তার কি অনুভুতি হবে? আমি জানি অনুভুতি টা খুব একটা গাঢ় হবে না। এ অনুভুতি প্রগাঢ় হবে তখনই যখন সেই এক ই মানুষ কাউকে ভালবাসবে, মাঝে মাঝে মানুষটাকে খুব হিংসা হয়। কেমন দুর্দান্তও প্রতাপে একজন মানুষের চিন্তার জায়গাটুকু আছন্ন করে নিল। খুব হিংসা হয়। ইচ্ছা করে দৌড়ে গিয়ে বলি "ওই বেটা রাজত্ব ছাড় , নয়তো ওই রাজত্বের কিছুটা অংশ আমাকে দে "।
পরিশেষে, ভালোবাসা গুলো ভালো থাকুক। আর ভালোবাসার মানুষ গুলো ভালো থাকুক।যারা ভালোবাসে তাঁরাও ভালো থাকুক ।আল্লাহ যেন সবাই কে ভালো রাখেন । মা ভালো থাকুক। বাবা ভালো থাকুক।লক্ষ্মী ভাইটা আর আদুরে বোনটাও ভালো থাকুক। পাশের বাড়ীর মেয়েটাও ভালো থাকুক। আর "সে " ভালো থাকুক।